বাবা-মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শেখ আব্দুল্লাহ

শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় গোপালগঞ্জে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

আজ রবিবার বাদআসর তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কেকানিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে বাড়ির মসজিদ প্রাঙ্গনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তাঁকে গার্ড অব অনার ও রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করা হয়।

জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান, সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিকুর রহমান খান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী এমদাদুল হক, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ লুৎফার রহমান বাচ্চুসহ জেলা-উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

এর আগে বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে আল-মারকাজুল ইসলাম হাসপাতালের একটি লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা থেকে সরাসরি তাঁর লাশ গ্রামের বাড়ি কেকানিয়া গ্রামে এসে পৌঁছায়। এ সময় তাঁর স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। সৃষ্টি হয় শোকাবহ পরিবেশ। স্বজন ও নেতাকর্মীরাও কান্নায় ভেঙে পড়েন।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও গোপালগঞ্জের সকলের প্রিয় আব্দুল্লাহ ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে জেলার সর্বত্র নেমে আসে শোকের ছায়া। নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের লোকজন শোক প্রকাশ করেছেন তাঁর এই মৃত্যুতে। নেতার মৃত্যুর খবর শোনার পর শহরের কলেজ রোডের বাসায় ও গ্রামের বাড়িতে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহচর, সহকর্মী, নেতা-কর্মী ও স্বজন ছুটে যান। তারা নিহত নেতার সর্বশেষ খবর জানার জন্য স্বজনদের সাথে প্রতিমুহুর্তে খবর রাখেন। 

গতকাল শনিবার রাত পৌনে ১২টায় তিনি ঢাকার সিএমএইচ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ, সদর উপজেলা আওয়ামী ও সহযোগী সংগঠন, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন, কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন, কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন, মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন, জেলা আইনজীবী সমিতি, জেলা সম্মিলিত ব্যবসায়ী সমিতি, জেলা উদীচী, রিপোর্টারস ফোরাম, টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, কোটালীপাড়া সমিতিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষে শোক জানানো হয়। 

কর্মসূচি

জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ৭ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর মৃত্যুতে জেলা আওয়ামী লীগ তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছে। সেই সাথে ৭ দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাচ ধারণ, কোরানখানী, শোকসভাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচি। তবে এসব কর্মসূচি স্বাস্থ্যবিধি মেনেই করা হবে। 

নেতাদের শোক

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান বলেন, শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজনীতিতে আসেন। এরপর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। পরবর্তীতে তিনি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক জীবনে দলের আদর্শ থেকে বিচ্চুত হয়নি। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পর অনেক ঝড়, সংগ্রাম অত্যাচার নির্যাতন অনেক কিছু এসেছে। সে সময় তিনি দলের একজন দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে জেলার সকলকে সাথে নিয়ে দলীয় কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে প্রথম নির্বাচন করেন গোপালগঞ্জের-৩ (কোটালীপাড়া -টুঙ্গিপাড়া) আসন থেকে। তখন আমরা আব্দুল্লাহ ভাইয়ের নেতৃত্বে শেখ হাসিনার নির্বাচন করেছি। সেই থেকে তিনি প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার পক্ষে নির্বাচনী কার্মকাণ্ড পরিচালনা করেছিলেন। এই নেতার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত।

জেলা যুবলীগের সভাপতি জি এস শাহাবুদ্দিন আজম বলেন, শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ছিলে অত্যন্ত সদালাপী। তিনি ধারণ মানুষের সাথে মিশতেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর সুন্দরভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। তার এই মৃত্যুতে আমরা গোপালগঞ্জবাসী শোকাহত।

জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম জুলকদর রহমান বলেন, শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আমাদের অগ্রজ। এক সময় তিনি আইন পেশায় যুক্ত ছিলেন। দায়িত্বকালে তিনি ন্যায় এবং নিষ্ঠার সঙ্গে আইন পেশা চালিয়েছেন। রাজনীতিতেও ছিলেন তিনি তুখোড়। এই নেতার মৃত্যুতে আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হলো।

Leave a Reply